দেশে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রশিক্ষণ মিললেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কারিগরি সহায়তার ঘাটতিতে ভুগছেন উদ্যোক্তারা। অনেকেই ইউটিউব ও বিদেশি গবেষণা নিবন্ধ দেখে নিজ উদ্যোগে প্রযুক্তি শিখে মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি উদ্যোগ বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা এখনও সীমিত।

উদ্যোক্তারা বলছেন, ড্রাইং, প্রসেসিং ও প্যাকেজিং মেশিনের সহজলভ্যতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত ‘দা, বঁটি ও ছুরি’ ব্যবহার করে নিজের মেধা খাটিয়ে অনেকেই এখন ফল প্রক্রিয়াজাত করছেন। আবার কোন ফলটি কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে হবে, কোন জায়গায় কী ধরনের সহায়তা লাগবে- দেশের কৃষি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও অনেক সময় সে সহায়তা পাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা।

ইউটিউব ও বিদেশি জার্নাল ভরসা উদ্যোক্তাদের

আম থেকে আমসত্ত্ব, ম্যাংগো বার, ম্যাংগো ড্রাইড স্লাইস, ড্রাই ম্যাংগো, আনারস থেকে আনারস ড্রাই, আনারস ক্যান্ডি ও পেঁপে থেকে পেঁপে ড্রাই করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও ‘নওয়াবি ম্যাংগো’র স্বত্বাধিকারী ইসমাইল খান শামীম। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণে তাকে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। প্রায় পুরোটাই তিনি করেছেন নিজ উদ্যোগ ও নিজের জ্ঞান খাটিয়ে। আম ড্রাইড স্লাইস তৈরির প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে গিয়ে ৪০ বার ব্যর্থ হন তিনি। এতে নষ্ট হয় প্রায় ১০০ মণ আম। তবু থেমে থাকেননি। ইউটিউব ও বিভিন্ন দেশের জার্নাল দেখে এগিয়ে গেছেন। বর্তমানে কয়েকটি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণে সফল হয়েছেন তিনি।

ফল প্রক্রিয়াজাতে প্রশিক্ষণ আছে, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি সহায়তাড্রাই আনারস, পেঁপে ও আম এবং আনারস ক্যান্ডি, ছবি: নওয়াবি ম্যাংগো

নওয়াবি ম্যাংগোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল খান শামীম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে আমি যে পণ্যগুলো নিয়ে কাজ করছি প্রতিটিই কিন্তু আমার নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন করে বের করা। দেশে যারা কৃষি গবেষক আছেন, কোথায় কোন প্রিজারভেটিভ দিতে হবে, কোনটা দিলে কী হবে, শুধু এই সহায়তাটুকুই পাওয়া যাচ্ছে। কীভাবে টেক্সচার ভালো আনবো, কীভাবে গুড কোয়ালিটির প্রোডাক্ট তৈরি করবো এই সাপোর্টগুলো পাচ্ছি না।’

‘এই পণ্যগুলো (প্রক্রিয়াজাত ফল) তৈরির পেছনে আমার সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে বিভিন্ন দেশের জার্নাল। তারপরে ইউটিউবে যে ভিডিওগুলো আছে ফিলিপাইন, ব্রাজিল, মেক্সিকোর- এই ভিডিওগুলোতে কিন্তু ৩০ শতাংশ তথ্য দেওয়া থাকে। আমি বিভিন্ন ভিডিও দেখে ৩০, কোনোটি থেকে ২০, কোনোটি থেকে ১০ শতাংশ যোগ করে সবগুলো মিলিয়ে একটা ফরম্যাটে নিয়ে আসতে পেরেছি। সর্বশেষ সফল হয়েছি ফিলিপাইনের একটি ভিডিও দেখে। কারণ প্রথমে কালার ধরেই রাখতে পারছিলাম না। কিন্তু এখন সফল হয়েছি। এভাবে এই কাজগুলো করেছি। দেশে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন, তারা কিন্তু তেমন একটা সাপোর্ট দিতে পারেন না। মানে সদুত্তর দিতে পারেন না। আমি একটা প্রশ্ন করবো এটার উত্তর তারা দিতে পারেন না।’

ফল প্রক্রিয়াজাতে প্রশিক্ষণ আছে, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি সহায়তাড্রাই করার জন্য আম কাটছেন নওয়াবি ম্যাংগোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল খান শামীম (ডানে), ছবি: নওয়াবি ম্যাংগো

ফল প্রক্রিয়াজাতকরণে যন্ত্রপাতির অভাবের কথা উল্লেখ করে ইসমাইল খান শামীম বলেন, ‘আধুনিক ড্রাইং, প্রসেসিং ও প্যাকেজিং মেশিনের সহজলভ্যতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে এই খাতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সীমিত। ফলে অনেক উদ্যোক্তাকে বিদেশি প্রযুক্তি অনুসরণ করে নিজস্বভাবে উৎপাদন পদ্ধতি তৈরি করতে হয়। সরকার যদি গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সহায়তা দেয়, তাহলে এই শিল্প দ্রুত এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ড্রাইড ফ্রুটসের বড় একটি বাজার রয়েছে, কিন্তু এর বেশিরভাগ পণ্য বিদেশ থেকে আসে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা যদি প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, তাহলে আম, আনারস, পেঁপে, কলাসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল প্রক্রিয়াজাত করে একটি শক্তিশালী দেশীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে মৌসুমি ফল ও সবজির অপচয় কমিয়ে কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজনও বাড়ানো যাবে।’

ফল প্রক্রিয়াজাতে প্রশিক্ষণ আছে, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি সহায়তাহাইব্রিড স্মার্ট ড্রায়ারে শুকানো হচ্ছে ফল, ছবি: সোহেল রানার ফেসবুক

প্রশিক্ষণ মিললেও যন্ত্রপাতি সহায়তা সীমিত

টমেটো, আম, কলা, সজনে পাতা, নিম পাতা ও অর্জুনের মতো বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকিয়ে এবং পাউডার আকারে প্রক্রিয়াজাতকরণ করছেন নওগাঁর সাপাহারে অবস্থিত বরেন্দ্র এগ্রো পার্কের কৃষি উদ্যোক্তা মো. সোহেল রানা।

সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি হাইব্রিড স্মার্ট ড্রায়ারের মাধ্যমে ফল ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করি। এই ড্রায়ার দিনে সৌরশক্তি ও রাতে বিদ্যুতে চলে। বর্তমানে টমেটো, আম, কলা, সজনে পাতা, নিম পাতা ও অর্জুনের মতো বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকিয়ে এবং পাউডার আকারে প্রক্রিয়াজাত করছি। তবে উৎপাদন বাড়াতে ড্রায়ার ছাড়াও পাউডার তৈরির মেশিন, প্যাকেজিং মেশিন ও আধুনিক প্যাকেজিং উপকরণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই যন্ত্রগুলো কেনা আমাদের মতো ছোট ছোট উদ্যোক্তার জন্য বেশ ব্যয়বহুল।’

ফল প্রক্রিয়াজাতে প্রশিক্ষণ আছে, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি সহায়তাড্রায়ার রুমে কৃষি উদ্যোক্তা মো. সোহেল রানা (ডানে), ছবি: সোহেল রানা

সরকারি সহায়তার বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পেয়েছি, কিন্তু এখনো মেশিনারিজ সহায়তা পাইনি। সম্প্রতি পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ চালু হয়েছে। তবে আমের এলাকা নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকার যদি ড্রায়ার, প্যাকেজিং ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহে বিশেষ উদ্যোগ নেয়, তাহলে দ্রুত একটি শক্তিশালী ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

দা-বঁটি দিয়েই কাঁঠালের চিপস উৎপাদন

ফল প্রক্রিয়াজাতে প্রশিক্ষণ আছে, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি সহায়তাবঁটি দিয়ে কাটা হচ্ছে কাঁচা কাঁঠাল। বানানো হবে চিপস, ছবি: সংগৃহীত

দেশে কাঁঠাল থেকে চিপস, ফ্রেশ-কাট কাঁঠাল, কাঁঠালের আচার, কাঁঠালের জ্যাম ও কাঁঠালের বিচির পাউডার তৈরি করছেন হাজেরা এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আড়ৎ এগ্রো বিডির কর্ণধার মোহাম্মদ কাঞ্চন মিয়া। 

কাঞ্চন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর আঠা বা গাম। কাঁঠালের আঠা দূর করতে পারলে এটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া কাঁঠাল দ্রুত পেকে যাওয়ায় সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সময়ও খুব সীমিত থাকে। দেশের অধিকাংশ কাঁঠাল এখনো ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সীমিত।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কাঁঠাল থেকে চিপস, ফ্রেশ-কাট কাঁঠাল, কাঁঠালের আচার, কাঁঠালের জ্যাম ও কাঁঠালের বিচির পাউডার তৈরি করা হচ্ছে। তবে এসব পণ্য উৎপাদনে এখনও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দা, বঁটি ও কুড়ালের মতো প্রচলিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাঁঠাল কেটে, আঠা সরিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে চিপসসহ অন্যান্য পণ্য তৈরি করা হয়। অথচ উন্নত দেশগুলোতে কাঁচা কাঁঠাল ধোয়া, কাটা, আকার নির্ধারণ ও প্যাকেজিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াই স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।’

ফল প্রক্রিয়াজাতে প্রশিক্ষণ আছে, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি সহায়তাকাঁঠালের কোয়া দিয়ে সাজানো সবুজ-সাদা পেস্ট্রি কেক। পাশে কাঁঠালের জালি কাবাব, পাকোড়া, নকশী পিঠা, চিপস, রুটি, কাঠি কাবাব, হালুয়া, সাসলিক ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা। এবারের জাতীয় ফল মেলায় এসব প্রদর্শন করা হয়। ফাইল ছবি

কাঁঠাল শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে কাঞ্চন মিয়া বলেন, ‘ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়েসহ শীতপ্রধান দেশগুলোতে কাঁঠালের চিপস, ফ্রেশ-কাট ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও মানসম্মত উৎপাদনের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ এখনো সেই বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।’

সরকার বলছে সহায়তা বাড়ছে

সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে হর্টিকালচার এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট (হর্টেক্স) ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক (বিপণন) মিটুল কুমার সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে আমরা বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি সহায়তা ও বাজারসংযোগ (মার্কেট লিংকেজ) সুবিধা দিয়ে আসছি। আম, কাঁঠাল, টমেটোসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হন।’

আরও পড়ুন

সংরক্ষণের অভাবে পচে নষ্ট লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক ড্রাই আনারসে ব্যাপক সম্ভাবনা

মিটুল কুমার সাহা বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রমের আওতায় সীমিত পরিসরে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফল শুকানোর (ড্রায়িং) জন্য ড্রায়ার মেশিন, কাঁঠালের চিপস তৈরির সরঞ্জাম, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ও ক্ষুদ্র প্যাকহাউজ স্থাপনের সহায়তা। এসব প্যাকহাউজে ওয়াশিং, গ্রেডিং, সর্টিং, ড্রায়িং, প্যাকেজিং ও ওজন পরিমাপের সুবিধা রাখা হয়, যাতে কৃষক ও নারী উদ্যোক্তারা সেখানে বসেই প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।’

বাজেট সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে মিটুল কুমার সাহা বলেন, ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে আমাদের বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বড় পরিসরে যন্ত্রপাতি সহায়তা দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেই প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।’

ফল প্রক্রিয়াজাতে প্রশিক্ষণ আছে, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি সহায়তাড্রায়ার মেশিনে রাখা আনারস, ছবি: নওয়াবি ম্যাঙ্গো

এ বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক (বাজার সংযোগ, গবেষণা, রপ্তানি উন্নয়ন এবং কৃষি ব্যবসা শাখা) মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পভেদে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনায় আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতির মূল্যের একটি অংশ সরকার বহন করে ও বাকি অংশ উদ্যোক্তারা দেন। প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সব উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না। তারপরও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে যত বেশি সম্ভব উদ্যোক্তাকে সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

কাঁঠালের কেক থেকে মাশরুমের মিষ্টি, ফল মেলায় দর্শনার্থীর ভিড়

এক আমেই ৫ কেজি, দেখতে উপচেপড়া ভিড়

শরীরের জন্য কোন ড্রাই ফ্রুটস কতটা উপকারী?

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পোস্ট-হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে ফল ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। কৃষিতে সরকারি বিনিয়োগ মূলত উৎপাদন বৃদ্ধির দিকেই কেন্দ্রীভূত ছিল। সরকার এখন কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো, মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, কৃষি খাতের বৃহৎ উদ্যোগ ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের ১১ থেকে ১২ দিনের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, বিপণন, সার্টিফিকেশন এবং রপ্তানি বিষয়ে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ম্যাচিং গ্র্যান্টের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি, প্যাকেজিং উপকরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ফল প্রক্রিয়াজাতে প্রশিক্ষণ আছে, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি সহায়তাড্রায়ার মেশিনে রাখা আম, ছবি: নওয়াবি ম্যাঙ্গো

গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন নতুন প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজারসংযোগ এবং উদ্যোক্তা তৈরির মতো বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ফলে ভবিষ্যতে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প আরও সম্প্রসারিত হবে। একইসঙ্গে কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো সম্ভব হবে।’

অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়লেও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রাপ্তিতে তারা এখনও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

ইএইচটি/এমএমএআর/ এমএফএ