ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) বুধবার (২৪ জুন) আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে (earthquake) নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির শীর্ষ আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শক্তিশালী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, সংকটময় এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর জোট ইন্টার-এজেন্সি স্ট্যান্ডিং কমিটি (IASC)। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে না এই জরুরি পরিস্থিতিকে আরও গভীর হয়ে একটি ‘বৃহত্তর মানবিক ট্র্যাজেডিতে’ রূপ নিতে দেওয়া।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই ভূমিকম্পের আগে থেকেই ভেনেজুয়েলার লাখ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যসেবা, নানা ধরণের সুরক্ষাজনিত ঝুঁকি এবং মৌলিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি ছিল। ফলে আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জীবনযাপন করা বহু জনগোষ্ঠীর জন্য এই সর্বশেষ ধাক্কাটি এক চরম ‘বিপর্যয়’ নিয়ে এসেছে।

বিবৃতির শেষ অংশে আইএএসসি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার জন্য দ্রুত তহবিল সরবরাহ নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানায়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিখোঁজদের উদ্ধারে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বর্তমানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য। সেখানে এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরই দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী খাটানোর ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের বিভিন্ন ছবি সামনে এসেছে।

সরকারের ধীরগতি নিয়ে সমালোচনা, স্বজনদের অপেক্ষা

এদিকে, দুর্গত এলাকায় সেনা মোতায়েন ও ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও উদ্ধারকাজে সরকারের ধীরগতি ও সময়মতো সাড়া না দেওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েননি ভেনিজুয়েলার মানুষ।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ২২ ও ২৩ বছর বয়সী দুই মেয়ে এখনো নিখোঁজ। তিনি বলেন, আমি শুধু আমার সন্তানদের আমার বুকে ফেরত চাই।

মারিয়ানেল্লা নামের আরেক নারী বলেন, আমার মন বলছে আমার ভাই এখনো বেঁচে আছে। নিখোঁজ স্বজনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার এমন আকুলতা আর বুকভরা আশা নিয়েই উদ্ধারকারীদের দিকে তাকিয়ে আছেন শত শত পরিবার।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ