৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে গতকাল শুক্রবার আবার কেঁপে উঠেছে ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূল। এদিকে গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দেশটিতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ আছেন।
বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের কিছু অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইএমএসসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, গতকাল আঘাত হানা সর্বশেষ ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার উত্তরের মারাকাই শহরের ৬১ কিলোমিটার (৩৬ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে।
এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেছে, গতকাল মারাকাই ও কারাকাসে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলা সরকার এক্সের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। ২০২৪ সালে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দেশটিতে এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা এখনো বুধবারের ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। বেশির ভাগ জায়গায় উদ্ধারকাজ চলছে। এরই মধ্যে নতুন করে ভূমিকম্প আঘাত হানার কথা জানা গেল।
এ পরিস্থিতিতে ওই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ধারণা করছে, এ সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১৭২ জনের বেশি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো ঘোষণা দেন, লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ এবং ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে অনুসন্ধান কার্যক্রমে চালাতে সংগঠিত হয়েছেন। কেউ কেউ তাঁদের ব্যক্তিগত যানবাহনকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলা সরকার এক্সের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। দেশটিতে ২০২৪ সালে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছেন।
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০, উদ্ধারকাজে ধীরগতিতে অসন্তোষ বাড়ছে২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস বলেন, ‘স্থানীয়রাই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে জীবিতদের উদ্ধার করে আনছেন।’
জেনিফারের ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং আরও পাঁচ স্বজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘কংক্রিটের বড় বড় স্ল্যাব সরাতে আমাদের ক্রেন দরকার। সেখানে এখনো মানুষ আটকা পড়ে আছে।’
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজে প্রাণপণ চেষ্টা, নিহত বেড়ে ২৩৫





