সাব্বির হোসাইন

গাজীপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর অতিথি আপ্যায়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। লাল মাটির এই জেলায় এমন বাড়ি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যে বাড়িতে অন্তত একটি কাঁঠাল গাছ নেই। গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে থাকা ভাওয়াল গড়ের এই কাঁঠাল শুধু একটি ফল নয়, বরং এই অঞ্চলের মানুষের আবেগ ও গর্বের প্রতীক।

​গাজীপুরের কাঁঠালের জন্য ২০২৪ সালটি ছিল একটি ঐতিহাসিক বছর। এই বছর গাজীপুরের কাঁঠালকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাজীপুরের কাঁঠাল রপ্তানির এক বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে এই কাঁঠাল দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

​জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়ের এই ভরা মৌসুমে গাজীপুরের কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও জয়দেবপুর অঞ্চলের প্রতিটি প্রাথমিক ও পাইকারি বাজারে চলে কাঁঠালের ধুমধাম বেচাকেনা। প্রতিদিন প্রত্যুষে (ভোরবেলা) যখন হাটগুলো বসে, তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রতিদিন এই কাঁঠালকে কেন্দ্র করে শুধু গাজীপুরেই কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়।

গাজীপুরের কাঁঠাল শুধু কাঁচা ফল হিসেবেই নয়, বরং পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্তরে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কাঁঠালকে প্রক্রিয়াজাত করে চিপস, আচার ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে তা বিদেশে রপ্তানি করার নানামুখী প্রচেষ্টা এখন চলমান, যা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

​স্বাদ, সুবাস আর ঐতিহ্যে অনন্য গাজীপুরের এই কাঁঠাল যেমন আমাদের জিভে জল আনে, তেমনই সমৃদ্ধ করছে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে। লাল মাটির এই আশীর্বাদ যেন সত্যি এক অনন্য বিস্ময়!

লেখক: শিক্ষার্থী, তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গী

কেএসকে